তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে একই দিনে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময় ইউপি ভোটগ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়ে তারা নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান।

চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে একই দিনে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা ও নির্বাচন—দুই কার্যক্রমের জন্য একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে দ্বিতীয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলাগুলোতে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মধ্যে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময় ইউপি ভোট না দিয়ে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশালের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রই ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। বৃত্তি পরীক্ষা একটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ভোট হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। তাই ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা দরকার।’
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর বাংলা, ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা ও জাতীয় কর্মসূচির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচির সম্ভাব্য স্লট নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো ১৩ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে, সেটিও পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।
এ অবস্থায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ১৩ ডিসেম্বরের গণিত পরীক্ষা এবং একই দিনে সম্ভাব্য ইউপি ভোটের বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, টেস্ট পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রোজার ঈদ ও ঈদুল আজহার সময় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সঙ্গে সম্ভাব্য ভোটের তারিখের সংঘাত নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হোক।
কমিশনের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ ফেব্রুয়ারি এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫টি গুরুত্বপূর্ণ
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কবে শুরু হবে?
চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ কবে?
নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় কোন বিষয়ের পরীক্ষা হবে?
১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিনে পরীক্ষা ও ভোট হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষা কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি কী?
শিক্ষক ও অভিভাবকরা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সঙ্গে ইউপি ভোটের তারিখের সংঘাত এড়াতে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
উপসংহার
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য একই দিনে আয়োজন নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




