৩০ শিক্ষক-কর্মচারীকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ

৩০ শিক্ষক-কর্মচারীকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর গ্রহণ করা প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, ফেরত দিতে হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়োগ নিয়েই উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য।

অধ্যক্ষের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ

নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগকে বিধিসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার, মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও আপত্তি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার, আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার, নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার, তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের সনদ নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী গ্রন্থাগারিক আব্দুল হক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তাঁর নেওয়া ১৬ লাখ ৩ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএম শাখার কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ নেন। তাঁর যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়েও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি তোলা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলেও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নেওয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চতর স্কেলে বেতন নিয়েও আপত্তি

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধায় উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য।

একই কারণে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানারও উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের উদ্যোগ

অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় জামালপুরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দ্রুত ব্রডশিট জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, আগে অডিট আপত্তির জবাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হতো। সে সময় সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব গ্রহণ করা হতো। বর্তমানে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এখন অভিযুক্তদের সরাসরি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অবৈধভাবে উত্তোলন করা বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবেন। সরকারি অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
নিয়োগে অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে যা বলার অধ্যক্ষ বলবেন।

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল বলেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর যেভাবে জবাব চেয়েছে, তাঁরা সেভাবেই ব্রডশিট জবাব দিয়েছেন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোন প্রতিষ্ঠানের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে?

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কত টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে?

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে?

নিয়োগে অনিয়ম, যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা, সনদ নিয়ে আপত্তি এবং জাল সনদ ব্যবহারের মতো অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তদের বিষয়ে কি তদন্ত হবে?

অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে তদন্ত করা হবে।

ফেরতযোগ্য অর্থের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আপত্তির জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ফেরতযোগ্য বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপসংহার

বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও বেতন-ভাতা নিয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের জবাব ও তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top