প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেডে পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি ৫৬ হাজার ২৫১টি খাতায় প্রাপ্ত নম্বরেও পরিবর্তন করা হয়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনর্মূল্যায়নের পর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়।
কোন বোর্ডে কতজন ফেল থেকে পাস ও নতুন জিপিএ-৫
প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬ হাজার ২৫১টি খাতায় প্রাপ্ত নম্বরেও পরিবর্তন করা হয়েছে।
ঢাকা বোর্ড: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯০৬ জন।
রাজশাহী বোর্ড: রাজশাহী বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০৩টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ১১১ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭ জন।
কুমিল্লা বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড এবং ৪ হাজার ৭৩টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন।
যশোর বোর্ড: যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১ হাজার ৬৮৮ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮২ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৩ জন।
বরিশাল বোর্ড: বরিশাল বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ২৯৩টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮টি খাতার নম্বর সংশোধন করা হয়েছে। এ বোর্ডে ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।
সিলেট বোর্ড: সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১২১ জন।
দিনাজপুর বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭৫ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ড: ময়মনসিংহ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৭১ হাজার ৬৬টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫৩৮টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।
মাদ্রাসা বোর্ড: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯৩ জন।
কারিগরি বোর্ড: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০৭ জন পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।
পুনর্মূল্যায়নের পর ১১ বোর্ডে নতুন করে কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন?
পুনর্মূল্যায়নের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে মোট ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
কোন বোর্ডে সবচেয়ে বেশি নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা?
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৯০৬ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে নতুন করে কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন?
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পুনর্মূল্যায়নের পর নতুন করে ৭৭৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
পুনর্মূল্যায়নের পর কতজন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন?
উত্তর: ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পুনর্মূল্যায়নের পর মোট ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন।
পুনর্মূল্যায়নের জন্য মোট কতজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন?
উত্তর: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন
উপসংহার
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করার পাশাপাশি ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এতে ফল নিয়ে অপেক্ষায় থাকা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।




