কোনো ‘আনফিট’ বা অযোগ্য শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা বাংলা মাধ্যম—সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রণয়নাধীন নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ‘আনফিট’ বা অযোগ্য শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মাধ্যম ও বাংলা মাধ্যমসহ দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
সম্প্রতি রাজশাহী পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরও সহজ, আধুনিক ও কার্যকর করতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) ইতোমধ্যে নতুন প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ও মডিউল প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি নিয়োগ পেতে যাওয়া প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষকসহ দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়নে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিকে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। শিক্ষকরা যেন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করেই পাঠদান করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি কার্যকর ও সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু কাগুজে প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত চিত্র, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়—এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাদের অভিজ্ঞতা, মূল্যবান পরামর্শ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সরকারের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘আনফিট’ শিক্ষক বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ বা সক্ষমতা পূরণ করেন না, তাদের ‘আনফিট’ শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নতুন নীতিমালা কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মাধ্যম ও বাংলা মাধ্যমসহ সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক কি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারবেন?
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণবিহীন কাউকে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) নতুন প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ও মডিউল তৈরির কাজ করছে। এর মাধ্যমে নতুন ও কর্মরত শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে।
সরকারের প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য কী?
সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা পায়।
উপসংহার
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আনফিট’ শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা, কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত ও কার্যকর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



