এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল ও জাতীয়করণসহ ১০ দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল ও জাতীয়করণসহ ১০ দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, চাকরি জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।

বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনগুলোর উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রচলিত নিয়ম ও বিধি-বিধান অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা; বৈষম্য দূর করতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা; শতভাগ উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান; শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ ব্যবস্থা চালু; স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা; ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা; চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীত করা; নৈশপ্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটি নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বিতীয় নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় বক্তারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কল্যাণ-অবসর সুবিধা বোর্ড নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে আগামী ১৫ আগস্ট কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ৪৪ হাজার আবেদনকারীর প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে এককালীন ৫ লাখ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে অবসরপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ও অবসর সুবিধার অর্থের জন্য আবেদন করলে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বশেষ বেতনের ২৫ মাসের সমপরিমাণ এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে সর্বশেষ বেতনের ৭৫ মাসের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হতো। এখন কেন কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে—এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শুধু তাদের জমা করা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির কৌশল গ্রহণ করছে।

জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য মোট ৭০ শতাংশ বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে এবং আগামী চার বছরে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার ও শিক্ষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১০ সালের ১২ মে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি সমাবেশে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণসহ চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বরং গত ঈদুল আজহার আগে ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করেন, চাকরি জাতীয়করণের আগে তাদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এসব দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১০ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা; সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৬ সময়ে বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে দাবির পক্ষে জনমত গঠন করা; এবং দল-মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে দাবি আদায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মতিউর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন জসিম উদ্দিন আহমদ। এ সময় অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, মো. আলী, নূর মোহাম্মদ খোকন, হাসিম তালুকদার, লুৎফর ইসলাম, জসিম উদ্দিন, ইউসুফ ও ঝর্ণা বিশ্বাসসহ শিক্ষক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা খাতের সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকুন। নিয়মিত ভিডিও আপডেট পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটন চালু করুন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রধান দাবি কী?

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং চাকরি জাতীয়করণ তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

শিক্ষক-কর্মচারীদের মোট কয়টি দাবি রয়েছে?

শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মোট ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আর কোন দাবিগুলো জানানো হয়েছে?

দাবিগুলোর মধ্যে শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, দ্রুত বদলি, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয় রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী দাবি করা হয়েছে?

শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষকরা কী কর্মসূচি পালন করেন?

সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এবং সেখানে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

উপসংহার

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে বিভাগীয় সমাবেশসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top