যা দেওয়া হবে, আপনারা খুশি হবেন: পে স্কেল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব

যা দেওয়া হবে, আপনারা খুশি হবেন: পে স্কেল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নবম জাতীয় পে-স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় মুখ্যসচিব সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, তাতে তারা সন্তুষ্ট হবেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মুখ্যসচিবের দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সোমবার সমিতির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মালেক, মহাসচিব আশিকুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সি, সহ-সভাপতি মো. মুনীরুজ্জামান, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান লিটন, দপ্তর সম্পাদক আল আমিন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক।

এ সময় আবদুল মালেক অল্প সময়ের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া ও এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ায় মুখ্য সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশায় রয়েছেন। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি জানান, নিম্ন বেতনভুক্ত অনেক কর্মচারী পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে তাদের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে দুটি পে-স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেন।

আবদুল মালেক আরও বলেন, ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মেটাতেই উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হওয়ায় নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের জন্য সংসার পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বর্তমান জীবনযাত্রার বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে একপর্যায়ে আবদুল মালেক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার বক্তব্যের সময় সাক্ষাতের পরিবেশও আবেগঘন হয়ে ওঠে। মুখ্য সচিব কর্মচারীদের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একটি আবেদন মুখ্য সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধি দল?

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ও বাস্তবায়নের দাবি জানানোই ছিল সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য।

পে-স্কেল নিয়ে মুখ্যসচিব কী আশ্বাস দিয়েছেন?

মুখ্যসচিব প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “যা দেওয়া হবে, আপনারা খুশি হবেন।”

সর্বনিম্ন বেতন কত টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে?

জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে দুটি পে-স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন নতুন পে-স্কেল দাবি করছেন?

দীর্ঘ ১১ বছর নতুন পে-স্কেল না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা নতুন পে-স্কেলের দাবি জানাচ্ছেন।

উপসংহার

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এসেছে। দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে মুখ্যসচিবের আশ্বাসে কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের দাবি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top