আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, বিশ্ব চায়: শিক্ষামন্ত্রী

আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, বিশ্ব চায়: শিক্ষামন্ত্রী

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়ম ও অপব্যবহার ঘটেছে। ফলে বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টে কোনো অর্থ অবশিষ্ট নেই।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি অনলাইন ক্লাসের পক্ষে নন, তবে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট বিভাগের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, প্রিন্সিপাল, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অংশ নেন। আলোচনায় কেউই অনলাইন ক্লাসের প্রতি আগ্রহ দেখাননি। তিনি বলেন, “আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু বৈশ্বিক বাস্তবতা আমাদের সেই দিকেই এগিয়ে নিচ্ছে। তাই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করতে হবে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি আর করোনাকালীন পরিস্থিতি নয় যে অনলাইন শিক্ষার ফলে শিক্ষার্থীরা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় পড়বে। বরং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য।
শিক্ষামন্ত্রী আরও প্রস্তাব করেন, একদিন সরাসরি বিদ্যালয়ে এবং পরদিন অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে রাজধানীর সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সহজে বাস্তবায়নযোগ্য, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক শিক্ষক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ থোক বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কিছু সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় আবেদন করেও নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। অর্থের অভাবে অনেককে সন্তানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এমনকি চিকিৎসার অভাবে কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেছেন—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষাসহ সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’র ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুন ভিডিওর আপডেট পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকন চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন পৌঁছে যায়।

৫টি গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষামন্ত্রী কেন অনলাইন ক্লাসের কথা বলছেন?

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি অনলাইন ক্লাসের পক্ষে না হলেও বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল শিক্ষায় অগ্রসর হওয়া জরুরি।

শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ক্লাস পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়েছে?

একদিন সরাসরি বিদ্যালয়ে এবং পরদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার একটি সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্টেকহোল্ডারদের মতামত কী ছিল?

প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় অধিকাংশই অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

অনলাইন ক্লাস কি শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে?

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি করোনাকালীন নয়, তাই সঠিক ব্যবস্থাপনায় অনলাইন শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ফেলবে না।

কারা সবচেয়ে বেশি এই পদ্ধতি থেকে উপকৃত হবে?

বিশেষ করে শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা, যাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা ও অতিরিক্ত শিক্ষকের সহায়তা রয়েছে, তারা এ পদ্ধতি সহজে গ্রহণ করতে পারবে।

উপসংহার

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা অনিবার্য। যদিও অনলাইন শিক্ষার প্রতি সবার আগ্রহ এখনও সীমিত, তবুও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী হাইব্রিড পদ্ধতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভিযোজনই হতে পারে টেকসই সমাধান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কল্যাণ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top