নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা, ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন

নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা, ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিগত সম্মতির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিগত সম্মতির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুন কাঠামোয় পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ভাতা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সীরা মাসে ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮ হাজার টাকা এবং এর কম বয়সীরা ৫ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন।

কমিশনের প্রতিবেদনে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বাস্তবায়নেই সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

তবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে এ পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজেট সক্ষমতা, রাজস্ব আয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেলকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরকারের ভেতরে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আগামী ২১ মের বৈঠকেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

টি সাধারণ প্রশ্ন

নতুন পে-স্কেল কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে?

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল কি একসঙ্গে বাস্তবায়ন হবে?

না, সরকার পুরো পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

পেনশনভোগীরা নতুন পে-স্কেলে কী সুবিধা পেতে পারেন?

প্রস্তাব অনুযায়ী, পেনশনভোগীদের পেনশন ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক অতিরিক্ত চিকিৎসা ভাতারও সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে কোন কোন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে?

বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতা আরও বেশি গ্রেডে সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।

উপসংহার

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি, ভাতা সম্প্রসারণ এবং পেনশন সুবিধার পরিবর্তন কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাজেট বরাদ্দের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top