উপবৃত্তি: মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র জটিলতা থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য যে নির্দেশনা

উপবৃত্তি: মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র জটিলতা থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য যে নির্দেশনা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য এইচএসপি-এমআইএস প্ল্যাটফর্মে তথ্য এন্ট্রি ও প্রেরণের সুবিধা আগামী ৬ জুন রাত ১০টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকলে, সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৬ষ্ঠ ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর তথ্য উপবৃত্তি সফটওয়্যারে নির্ভুলভাবে এন্ট্রি করতে হবে।

রোববার (২৪ মে) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় বাস্তবায়িত সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির অধীনে যেসব শিক্ষার্থীর বাবা বা মা—অথবা উভয়েই—মৃত কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি নেই, তাদের ৬ষ্ঠ ও একাদশ বা সমমান শ্রেণিতে উপবৃত্তির জন্য তথ্য এন্ট্রি কার্যক্রম আগামী ২ জুন শুরু হয়ে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি করে নির্ধারিত অপশন ব্যবহার করে উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

এছাড়া জানানো হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসপি-এমআইএসে তথ্য এন্ট্রি ও পাঠানোর সুবিধা ৬ জুন রাত ১০টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপজেলা বা মেট্রোপলিটন পর্যায়ে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির সভা আয়োজন করে সফটওয়্যারে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে। যাচাইকৃত ও সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৭ জুনের মধ্যে এইচএসপি/পিএমইএটি-এ পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীর বাবা বা মায়ের মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিষ্ক্রিয় থাকলে বা এনআইডি নম্বর প্রদান সম্ভব না হলে, এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বাবা অথবা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনের এনআইডি থাকলে সেটি ব্যবহার করে তাকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে। আর যদি বাবা ও মা উভয়ই মৃত হন এবং তাদের এনআইডি নম্বর প্রদান সম্ভব না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীর আপন ভাই-বোন, দাদা-দাদি অথবা নানা-নানিকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজ নামে থাকা স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি না থাকার বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করতে হবে। ওই প্রত্যয়নপত্র এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে আপলোড করাও বাধ্যতামূলক।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পিতা-মাতার মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে।

এদিকে, উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেই নিতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কোন শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় তথ্য এন্ট্রি করতে পারবে?

যেসব শিক্ষার্থীর বাবা বা মা, অথবা উভয়ের মৃত্যু হয়েছে কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে অভিভাবকের এনআইডি প্রদান সম্ভব নয়, তারা এই সুবিধার আওতায় তথ্য এন্ট্রি করতে পারবে।

বাবা বা মায়ের একজনের এনআইডি থাকলে কী করতে হবে?

বাবা অথবা মায়ের যেকোনো একজনের এনআইডি থাকলে সেটি ব্যবহার করে তাকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করে এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।

বাবা ও মা উভয়ই মৃত হলে শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে কাকে নির্বাচন করা যাবে?

এ ক্ষেত্রে আপন ভাই-বোন, দাদা-দাদি অথবা নানা-নানিকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করা যাবে এবং শিক্ষার্থীর নিজ নামীয় স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে।

তথ্য এন্ট্রির ক্ষেত্রে কোন ধরনের কাগজপত্র আপলোড করতে হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি না থাকার প্রত্যয়নপত্র এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে আপলোড করতে হবে।

তথ্য এন্ট্রির সময়সীমা কতদিন?

আগামী ২ জুন থেকে ৬ জুন রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও প্রেরণ সম্পন্ন করতে হবে।

উপসংহার

উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি জটিলতায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top