শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছে শিক্ষাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক শিক্ষাডটকম’ এবং শিক্ষা খাতের একমাত্র জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’। এসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের একাধিক নজিরও রয়েছে।

আর্থিক অনিয়মে জড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাধারণত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, এবার সামনে এসেছে এক ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর ঘটনা। পরিদর্শন ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা চিত্র ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছে শিক্ষাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক শিক্ষাডটকম’ এবং শিক্ষা খাতের জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’। এসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতীতেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর কামিল (এমএ) মাদরাসায় পরিদর্শনে গিয়ে ডিআইএ কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের এমপিও স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিআইএর সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক এফ এম শাহাবুদ্দীন এবং অডিটর মো. ফজলুল হক গত ১০ মে মাদরাসাটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে সেখানে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেনি এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে বাধা দেয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের লিখিত ব্যাখ্যাসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম প্রতিবেদনটি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়।
এমপিও স্থগিতের সুপারিশসংক্রান্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ডিআইএর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিআইএর রেজুলেশন ও এমপিও নীতিমালার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের বরাত দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কোন মাদরাসার এমপিও স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে?
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর কামিল (এমএ) মাদরাসার অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার এমপিও স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন মাদরাসাটির এমপিও স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে?
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের মাদরাসায় প্রবেশ ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে এই সুপারিশ করা হয়েছে।
কারা মাদরাসাটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন?
ডিআইএর সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক এফ এম শাহাবুদ্দীন এবং অডিটর মো. ফজলুল হক গত ১০ মে মাদরাসাটি পরিদর্শনে যান।
এমপিও স্থগিত হলে এর প্রভাব কী হবে?
এমপিও স্থগিত হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও কর্মচারীরা সাময়িকভাবে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
ডিআইএর পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
উপসংহার
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতের সুপারিশ শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নে পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ ঘটনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





