দীর্ঘ ২১ মাস পেরিয়ে গেলেও এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রহস্যজনক বিলম্ব ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি মাদরাসা ও দুটি বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দায়েরের ২১ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে বিলম্ব এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার একটি মাদরাসা ও দুটি বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি না হওয়ায় দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
এদিকে তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার অভিযোগে পটকা দাখিল মাদরাসার সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহে গড়িমসি করায় তদন্ত কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পটকা দাখিল মাদরাসার পাঁচজন, শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন এবং শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে জাল বা অকার্যকর সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন বগুড়ার নট্রামসের অস্তিত্বহীন শাখা থেকে ইস্যুকৃত সনদ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেউ অ্যাপটেক নামের কথিত প্রতিষ্ঠান, আবার কেউ সেলফ রিলায়েন্ট এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সনদ ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুই শিক্ষক ময়মনসিংহের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশে পটকা দাখিল মাদরাসার সুপার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো না পাওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি হয়েছেন এবং জাল সনদ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
তবে গাজীপুরের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, সরেজমিন তদন্তের সময় পটকা দাখিল মাদরাসার সুপারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা করেননি। তদন্তে সহযোগিতা না করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগে কতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে?
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি মাদরাসা ও দুটি বিদ্যালয়ের মোট সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
তদন্ত শেষ হতে এত দেরি কেন হচ্ছে?
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বিলম্ব, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে ২১ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
কোন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা এ অভিযোগের আওতায় রয়েছেন?
পটকা দাখিল মাদরাসা, শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে পটকা দাখিল মাদরাসার সুপারকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা কী?
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপসংহার
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত ২১ মাসেও শেষ না হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।



