এ কে এম আনিসুর রহমানের মায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত রাতে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তার মাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আগে তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হতে হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।”

ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে ও আলোচিত যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বুধবার (৩ জুন) সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এ কে এম আনিসুর রহমান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার মায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত রাতে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তার মাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আগে তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হতে হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দেশে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন রয়েছে। যদি ঘটনাটির সঙ্গে ওই আইনের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নৈতিকতার বিষয়টিও অবশ্যই বিবেচনায় আসবে। আপনারা যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। সব দিক পর্যালোচনা করেই আমরা বিষয়টি মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় নিজ বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি অবশ্যই আমাদের নজরে রয়েছে। তদন্ত ও তথ্য যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী যা করণীয়, তা-ই করা হবে।”
ঘটনার পর থেকে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে। গত রাত থেকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
গত রোববার (৩১ মে) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া একটি ফোনকলের ভিত্তিতে পুলিশ মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৃত নারীর মেয়ে একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেননি। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে অনেকটাই একাকী জীবনযাপন করছিলেন। তার দুই ছেলে পৃথকভাবে বসবাস করতেন এবং মায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ খুবই সীমিত ছিল বলে প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে একজন কন্যা স্কুলশিক্ষক এবং অপর ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে, নুরজাহান বেগমের সন্তানদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমানের নাম আলোচনায় আসায় বিষয়টি জনমনে আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নুরজাহান বেগমের মরদেহ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়?
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার নিজ বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে সামনে আসে?
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সরকারের অবস্থান কী?
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন মায়ের খোঁজখবর নেননি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ বিষয়ে দেশে কোনো আইন আছে কি?
হ্যাঁ। বাংলাদেশে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ রয়েছে, যেখানে সন্তানদের বাবা-মায়ের দেখভাল ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। তদন্তে প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া গেলে ওই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উপসংহার
মিরপুরে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডিই নয়, বরং সমাজে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। তদন্তে যদি কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিত করার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।



