এমবিবিএস পরীক্ষার গোপন কক্ষে ঢুকে ‘নাম্বার টেম্পারিং’!

এমবিবিএস পরীক্ষার গোপন কক্ষে ঢুকে ‘নাম্বার টেম্পারিং’!

অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদ করিমের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত নম্বর নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত গোপন নাম্বারিং কক্ষে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি গুরুতর অনিয়মের শামিল।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার সার্জারি প্রথম পত্রের নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ গোপন নম্বরিং কক্ষে অননুমোদিতভাবে একজন ব্যক্তির প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই গোপন কক্ষে বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতা এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের কনসালটেন্ট সার্জন ডা. ঈসা চৌধুরীর উপস্থিতিতে ছাত্রদলের ছয়জন নেতার পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদ করিমের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত নম্বর নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত গোপন নাম্বারিং কক্ষে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি পরীক্ষার স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা ও নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ থেকে ৭ জুলাই চট্টগ্রামের বেসরকারি মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজে নভেম্বর-২০২৫ সেশনের চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার সার্জারি প্রথম পত্রের মৌখিক, ব্যবহারিক এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরীক্ষায় পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইউনুস হারুন চৌধুরী, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. সাইফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এয়াকুব হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ইমরুজ উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে পরীক্ষকদের গোপন নম্বরিং কার্যক্রম চলাকালে বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতা এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের কনসালটেন্ট সার্জন ডা. ঈসা চৌধুরী ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁর উপস্থিতিতে ছাত্রদলের ছয়জন নেতার পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর বিষয়টি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও প্রাথমিক উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের কনসালটেন্ট সার্জন ডা. ঈসা চৌধুরী বলেন, তিনি কখনোই গোপন নম্বরিং কক্ষে প্রবেশ করেননি। তাঁর দাবি, ওইদিন তিনি সেখানে রোগী দেখতে গিয়েছিলেন এবং পরীক্ষার কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কয়েকজন শিক্ষকের অপপ্রচারের অংশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা না পড়লেও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমবিবিএস পরীক্ষায় কী ধরনের অভিযোগ উঠেছে?

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার সার্জারি প্রথম পত্রের নম্বর টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগটি কোথায় ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে?

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত গোপন নম্বরিং কক্ষে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কী?

অভিযুক্ত ডা. ঈসা চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি গোপন কক্ষে প্রবেশ করেননি এবং পরীক্ষার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপসংহার

এমবিবিএস পরীক্ষার নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ চিকিৎসা শিক্ষার স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন প্রক্রয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনই গুরুত্বপূর্ণ হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সবার আস্থা অটুট থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top