খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা

খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং অন্তর্নিহিত মেধার বিকাশে সরকার দেশব্যাপী একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি এবং সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে দেশব্যাপী বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর আওতায় পরিচালিত ‘পারফরম্যান্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিমের অধীনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার গণ্ডি থেকে বের করে বাস্তবমুখী, উদ্ভাবনী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং তাদের তত্ত্বাবধানের জন্য দুজন শিক্ষককে নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। তবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক দলও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাতে পারবে।

প্রতিযোগিতামূলক এ শোকেসিং বা মেলা তিনটি প্রধান বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো— স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং ইনোভেশন আইডিয়া।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের আওতাধীন শিক্ষা থানাগুলোতে এ মেলার আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে। উপজেলা বা থানা পর্যায়ের গঠিত কমিটি প্রদর্শিত প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করে সেরা একটি প্রকল্পকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করবে।

এরপর আগামী ২৪ জুন জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত সেরা দল, যার মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক থাকবেন, জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হবে।

এছাড়া জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দলগুলোর তালিকা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষরসহ স্ক্যান করে আগামী ২৬ জুনের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা (pbgseaward2026@gmail.com)-এ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪টি মহানগরী থেকে নির্বাচিত মোট ৭৫টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এসব দলে মোট ৫২৫ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হবে। বিজয়ী দলগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সুযোগ পাবে।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে, যা সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে প্রেরণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে একটি করে সনদ প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের জন্যও বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা রয়েছে। ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষক ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি তাদেরও একটি করে সনদ প্রদান করা হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলায় কারা অংশ নিতে পারবে?

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমন্বয়ে দল গঠন করা হবে।

মেলাটি কোন কোন বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে?

মেলাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে— স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং ইনোভেশন আইডিয়া।

প্রতিযোগিতার ধাপগুলো কী কী?

প্রথমে উপজেলা বা থানা পর্যায়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিত দলগুলো জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে।

জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের জন্য কী পুরস্কার রাখা হয়েছে?

জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০টি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা ও সনদ প্রদান করা হবে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা কত?

প্রতিটি শিক্ষার্থী ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ৫ হাজার টাকা এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষক ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি সবাইকে সনদ দেওয়া হবে।

উপসংহার

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাধারা এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এ প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top