সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি

নিশ্চিতভাবেই! আপনি যে লেখাটি পেশাদার ও প্রাঞ্জল বাংলায় পুনর্লিখন করতে চান, অনুগ্রহ করে সেটি এখানে প্রদান করুন। আমি তা সুসংগঠিত ও পরিমার্জিতভাবে উপস্থাপন করব।

সরকার দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

গত সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্বে জারিকৃত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও দায়িত্ব-কর্তব্য সংক্রান্ত সকল প্রজ্ঞাপন ও আদেশ বাতিল করে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হলো।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত/চলতি দায়িত্ব)।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন—বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন শিক্ষানুরাগী মহিলা অভিভাবক (ন্যূনতম এসএসসি উত্তীর্ণ) এবং একজন শিক্ষানুরাগী পুরুষ অভিভাবক (ন্যূনতম এসএসসি উত্তীর্ণ)। এছাড়া, বিদ্যালয়ের জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারী (যদি থাকেন), নিকটবর্তী কোনো সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমপিওভুক্ত মাদরাসা বা কওমি মাদরাসার একজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত দু’জন মহিলা ও দু’জন পুরুষ সদস্য, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য/পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা সভাপতিসহ ১২ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতি সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং মাধ্যমিক/মাদরাসা থেকে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ব্যতীত অন্যান্য সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক।

তবে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সভাপতি মনোনয়ন প্রদান করবে।

এছাড়া, পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

৫টি সাধারণ প্রশ্ন

নতুন নীতিমালাটি কেন জারি করা হয়েছে?

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

পূর্বের নীতিমালার কী অবস্থা?

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্বে জারিকৃত কমিটি গঠন ও দায়িত্ব-কর্তব্য সংক্রান্ত সব প্রজ্ঞাপন ও আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা কত?

সভাপতিসহ কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা ১২ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভাপতি ও সহ-সভাপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন?

প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং মাধ্যমিক/মাদরাসা থেকে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়া অন্যান্য সদস্যদের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

সভাপতির জন্য কী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে?

সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে, কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে মন্ত্রণালয় থেকে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হবে।

উপসংহার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top