গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান, যা নিরসনে দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল বা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; বরং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মিরপুরে অধিদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনরত প্রার্থীদের।
এর আগে, রোববার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন বা বাতিল করা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে জেলাভিত্তিক তালিকার মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অভিযোগ, দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। অথচ পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সুনামগঞ্জের এক প্রার্থী জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং এতে মানসিক চাপ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাসহ দেশের সর্বশেষ খবর জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। নতুন ভিডিও আপডেট পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনে ক্লিক করে নোটিফিকেশন চালু রাখুন, যাতে প্রতিটি ভিডিওর আপডেট আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কেন প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন?
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে এই কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রার্থীদের অভিযোগ কী?
তাদের অভিযোগ, দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, যদিও পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিক্যাল পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আন্দোলনরত প্রার্থীদের মূল দাবি কী?
দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দাবি।
সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, তবে তা বাতিল বা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দাবি পূরণ না হলে প্রার্থীরা কী পদক্ষেপ নিতে পারেন?
আন্দোলনরত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন।
উপসংহার
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানালেও দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা, যাতে একদিকে শিক্ষক সংকট দূর হয় এবং অন্যদিকে প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হয়।





