বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

হামলা পরিচালনায় মোট ২০টি ড্রোন এবং ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ আক্রমণের ফলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সদর দপ্তর ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে তারা উক্ত ঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে।

আইআরজিসি’র ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলায় মোট ২০টি ড্রোন এবং ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলার ফলে বিমানঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বাহরাইনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১০১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৯৮টি, ৩৯টি ড্রোনের মধ্যে ২৪টি এবং দুটি এসইউ–টুয়েন্টি ফোর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

এদিকে ইরানে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১১ জন সেনাসদস্য রয়েছেন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটির আরও দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলার পর থেকে ইরানে মোট নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা অন্তত ৭৪২ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে।

তবে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এর আগে সোমবার জানিয়েছিল, মোট নিহতের সংখ্যা ৫৫৫। আল–জাজিরা স্বতন্ত্রভাবে এসব পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি।

এইচআরএএনএ আরও বলেছে, গতকাল ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বন্দর আব্বাসে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ‘শহীদ বাহোনার পিয়ার’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরান কী দাবি করেছে?

ইরান দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হামলায় ২০টি ড্রোন এবং ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

হামলার ফলে কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে?

আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, বিমানঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে আগুন ধরে যায়।

বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কী বলেছে?

ঘটনার পরপরই বাহরাইনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ ঘটনার আঞ্চলিক প্রভাব কী হতে পারে?

এ ধরনের হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

উপসংহার

বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে ইরানের দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন যাচাই এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির সার্বিক প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top