শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ড. মিলন বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সোমবার শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং ভবিষ্যতের লংজেভিটি ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বিএনপির শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হবে জীবনমুখী, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল এডু-আইডি চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আইটি, বিজ্ঞান ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে আনার কথা কেন বলা হয়েছে?

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সময়ে কেবল মুখস্থভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে দক্ষ করে তুলতে পারে না। তাই সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে?

সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করতে পাঠ্যক্রম সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

গবেষণা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধির জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হবে?

গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য কী?

সরকার আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত ও কর্মমুখী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায়।

উপসংহার

শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে মুখস্থনির্ভর ধারা থেকে বেরিয়ে সৃজনশীল, বিশ্লেষণধর্মী এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী। গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমুখী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top