কমিশন–সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন আড়াই গুণ হারে বেতন বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে ওপরের দিকে গিয়ে তুলনামূলকভাবে কম হবে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হতে পারে।

জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ শেষবারের মতো বৈঠকে বসছে পে কমিশন। দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে বিকেল ৫টায় কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
কমিশন–সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন আড়াই গুণ হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে ওপরের দিকে গিয়ে তুলনামূলকভাবে কম হবে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হতে পারে। ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেলে যেখানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন ছিল যথাক্রমে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৭৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ এবং শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রায় দেড় গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর আজকের বৈঠকেই পে কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বিভিন্ন কমিটি দ্বারা যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে বাস্তবায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাধারণত এ ধরনের পর্যালোচনায় তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পে কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন বলে তিনি আশাবাদী। কারণ কমিশনের সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তাদের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেতন বৃদ্ধি কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, বেতন কাঠামোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বর্তমান পে কমিশনের কার্যক্রমকে ব্যতিক্রমী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের সদস্যরা সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে মতবিনিময় করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর মাধ্যমে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে?
উত্তর: প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন কত নির্ধারণ করা হচ্ছে?
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আগের পে স্কেলের সঙ্গে পার্থক্য কী?
২০১৫ সালের পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ছিল ৭৮ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে নিম্ন গ্রেডে বেতন প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়ছে।
সব গ্রেডেই কি সমান হারে বেতন বাড়বে?
না, সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হবে এবং ওপরের গ্রেডে ধাপে ধাপে কম হারে বাড়বে।
নতুন বেতন কাঠামো কবে কার্যকর হতে পারে?
পে কমিশনের প্রতিবেদন জমার পর যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাধারণত এতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
উপসংহার
পে কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে সরকারের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কবে থেকে এই বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।





