কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান এক গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৫ পৃষ্ঠার যে সুপারিশপত্রটি ঘুরছে, তা কমিশনের প্রস্তুতকৃত নয়। তাঁর ভাষায়, কমিশনের নিকট এমন কোনো নথি নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। তিনি আরও বলেন, কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের জন্য গঠিত পে কমিশন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে। কমিশনের কাজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—মোট সুপারিশ প্রণয়নের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়েছে। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে সচিবদের মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপরই কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির ধাপে অগ্রসর হবে।
কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান এক গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৫ পৃষ্ঠার যে তথাকথিত সুপারিশপত্র ঘুরছে, তা কমিশনের প্রস্তুতকৃত নয়। তাঁর ভাষায়, “এমন কোনো নথি আমাদের কাছে নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। কমিশন দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া এখনও বাকি। আগামী সোমবার সচিবদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফলে যে সুপারিশ ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি ভুয়া হওয়াই স্বাভাবিক।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই ১৫ পৃষ্ঠার ভুয়া সুপারিশপত্রে চাকরিজীবীদের গ্রেড সংখ্যা পূর্বের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে পে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—এই সুপারিশপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এর সঙ্গে কমিশনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কমিশন জানিয়েছে, ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া নথিতে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্ট কাঠামো ও ভাতা সংশোধন–সংক্রান্ত যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কমিশনের অনুমোদিত কোনো নথির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বেতনস্কেলের খসড়া সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি; কোনো সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়নি। একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নথি প্রকাশ বা ফাঁসও করা হয়নি। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নথিতে কমিশনের নাম ও লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বাড়ানোর বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে।” তবে নবম পে-স্কেলের গেজেট ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। তাদের আহ্বান—এ দাবি চলতি নভেম্বরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ গঠন করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, কমিশনের প্রথম সভা থেকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে এই কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
নতুন বেতন-ভাতা কাঠামো পর্যালোচনা ও সুপারিশের কাজে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। এ উদ্দেশ্যে আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঘন ঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পে কমিশনের রিপোর্ট কবে জমা দেওয়া হবে?
পে কমিশন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। রিপোর্ট তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
সুপারিশের কাজ কতটা এগিয়েছে?
কমিশন জানিয়েছে, মোট কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখনো স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশ কি সত্য?
না, কমিশনের মতে ওই নথি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। কমিশন কোনো নথি প্রকাশ বা ফাঁস করেনি এবং বেতন কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে হতে পারে?
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শেষে নতুন সরকার এলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সচিবদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক কবে?
নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্তকরণের অংশ হিসেবে আগামী ২৪ নভেম্বর সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উপসংহার
নতুন পে স্কেলের সুপারিশ প্রণয়ন এখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া নথি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, পে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আসল সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং সঠিক নথি সময়মতো সরকারকে প্রদান করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, আর সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হলে কাজ আরও গতি পাবে। সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে প্রক্রিয়াটি।





